জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ:
কক্সবাজারের টেকনাফে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের উদ্যোগ নিয়েছেন এক ইউপি সদস্য। তিনি ৪ নম্বর সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিদ্দিক আহমদ বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছিদ্দিক আহমদ সাবরাং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। এর আগে তিনি একই ওয়ার্ড থেকে আরও একবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। এবারসহ তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি জেলা বিএনপির সদস্য সুলতান আহমদ বিএর ছোট ভাই। স্থানীয়দের দাবি, ছিদ্দিক আহমদও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
বুধবার (১২ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর স্বাক্ষরযুক্ত একটি লিখিত আবেদন করেন ইউপি সদস্য ছিদ্দিক আহমদ। আবেদনে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব ও কার্যক্রমে নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে স্বেচ্ছায় ও সুস্থ মস্তিষ্কে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে ছিদ্দিক আহমদের পদত্যাগের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পদত্যাগের পেছনে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণের বাইরে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী দাবি করেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ, অবমূল্যায়ন ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণেও তিনি পদত্যাগের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ইউপি সদস্য নিজেও এমন কোনো কারণ উল্লেখ করেননি।
পদত্যাগের বিষয়ে ইউপি সদস্য ছিদ্দিক আহমদ বলেন, “এটি আমার পদত্যাগপত্র।”
কেন পদত্যাগ করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “একটু ভালো লাগছে না, তাই পদত্যাগ করতে যাচ্ছি।”
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েও কেন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পদত্যাগপত্র নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়েছিলাম। তাঁকে না পেয়ে এখনো পদত্যাগপত্রটি জমা দিতে পারিনি।”
এ বিষয়ে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। পাশাপাশি ফেসবুক মেসেঞ্জারে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ইউপি সদস্যের পদত্যাগের বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, “আমি এখনো পদত্যাগপত্র পাইনি। পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
